তিনটি ক্ষুদ্র লাভজনক ব্যাবসার আইডিয়া

ক্ষুদ্র-ব্যাবসার-আইডিয়া
ক্ষুদ্র ব্যাবসার আইডিয়া

এই পৃথিবীতে ব্যাবসার অভাব বা অন্ত কোনটাই নেই, তবে আমরা যারা মধ্যেবিত্ত পরিবারের মানুষ তারা ব্যাবসার কথা মাথায় আসার সাথে সাথেই প্রথমে যে চিন্তা আশে সেটি হল লস/লোকসান। তাই বেশিরভাগ মানুষ টাকা থাকা সত্বেও ব্যাবসা করতে আগহী হয় না, অলস টাকা ব্যাংকে পরে থাকে। তাই আজ কিছু লাভজনক ব্যাবসার আইডিয়া শেয়ার করব, হতে পারে যেকোন একটি ব্যাবসা দিয়েই পাল্টে যেতে পারে আপনার জীবন।


লাভজনক-ব্যাবসার-আইডিয়া
ফাষ্টফুডের ব্যাবসা

১) ফাষ্টফুডের দোকানঃ
 বর্তমান যুগে ফাষ্টফুডের ব্যাবসা একটি স্মার্ট ব্যাবসা। এই ব্যাবসা যেমন আরামদায়ক ঠিক তেমনিই অল্প ঝুকির ব্যাবসা। মোটামোটি একটি ভালো পরিবেশে আর ভালো যায়গা আর সুন্দর ডেকোরেশন দিয়েই শুরু করতে পারবেন।

ক) ফাষ্টফুডে বেশিরভাগ মানুষ প্রিয় জনের সাথে একসাথে বসে খাওয়া-দাওয়া আর সময় কাটাতে আসে, তাই কাষ্টমার নিয়ে আপনার টেনশন করতে হবে না, কাষ্টমার শুধু যদি জানতে পারে তবে, মাছির মতো মধুর খুজে চলে আসবে আপনার দোকানে।

খ) মাঝারি সাইজের একটি ফাষ্টফুডের ব্যাবসায় সর্বনিন্ম ৩(তিন) জন কর্মচারি থাকলেই হয়, কেননা কাষ্টমার ফাষ্টফুডে এসে খুব বেশি তড়িঘড়ি করে না, কেননা ফাষ্টফুডে ক্রেতা/ভোক্তা চাহিদা অনুযায়ী  অর্ডার করার পর খাবার বানানো হয়, সেক্ষেত্র একটু সময় লাগবে এটি সবাই জানে।

গ) খাবার নষ্ট হওয়ার ভয় নেই, যেহেতু পূর্বে থেকে কিছু তৈরি করে রাখা হয় না।

ঘ) ফাষ্টফুডের খাবারের মূল্য বাহিরের থেকে অনেক বেশি ধরা হয়, এর কোয়ালিটি পরিবেশ ভেদে, তাই কাষ্টমারের সাথে খাবারের দামাদামির সমস্যা থাকে না, কেননা পূর্বে থেকেই, খাবারের মেন্যুতে খাবারের মূল্য সংযোজন করা থাকে।

বিঃদ্রঃ এই ব্যাবসা করতে গেলে টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে, তবে আপনি যদি মোটামোটি হিসাব-নিকাশ আর ব্যাবসা করার সাহস থাকে তবে এই ব্যাবসায় কখনোই ক্ষতির সম্মুক্ষীন হবেন না। কর্মচারীর উপর ক্যাশের দায়িত্ব দিতে শশুড় বাড়ি যাবেন না, মনে রাখবেন একজন কর্মচারিই যথেষ্ট আপনার খাবার ব্যাবসাকে ধ্বংস করার জন্য।


ব্যাবসার-আইডিয়া
বিস্কুট তৈরির ব্যাবসা

২) বিস্কুট তৈরিঃ
আপনি ইচ্ছে করলে আপনার এলাকাতেই ভালো পরিমান টাকা কামাতে পারবেন ৩০-৪০(ত্রিশ-চল্লিশ) হাজার টাকা বিনিয়োগ করে। বিস্কুট তৈরি একটি লাভজন ব্যাবসা। আপনি যদি ভালো বিস্কুট তৈরি করতে পারেন তবে আপনার এলাকার আশে-পাশের যত দোকান বা চা-ষ্টল সেখানে সরবারহ করতে পারেন।

ক) এই ব্যাবসা আপনার ঘরেই করতে পারবেন, ঘরোয়া পরিবেশে, তাই খুব বেশি লোকার প্রয়োজন হয় না, পরিবারের সবাই একসাথে কাজ করে এটি একটি ক্ষুদ্র ঘরোয়া ব্যাবসায় রুপান্তর করতে পারেন।

খ) নিজে দোকানে গিয়ে যদি মাল/পণ্য সরবারহ করতে না চান, তবে একটি কর্মী রাখতে পারেন।

গ) অনেক বিক্রি আর লাভ করতে পারবেন, যেহেতু আপনাকে অন্যদের মতো ঘর ভাড়া আর খুব বেশি কর্মীর সাহায্য নিতে হয় না, বাজারের অন্যদের চেয়ে একটু রেট কমিয়ে দিলেই সবাই আপনার নিকট থেকে মাল নিবে।

ঘ) মোটামোটি ভাবে বিস্কুট তৈরির কাচামাল আর  অভেন হলেই শুরু করতে পারেন এই বিষ্কুটের ব্যাবসা।



ক্ষুদ্র-ব্যাবসা
কসমেটিক এর ব্যাবসার আইডিয়া

৩) কসমেটিক এর ব্যাবসাঃ
অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মহিলা/মেয়েদের এই কসমেটিক /প্রসাধনীর উপর ব্যাপক ঝোঁক রয়েছে, এইদেশ গুলোতে মানুষ যেমন নিত্য প্রয়োজনীয় কাচামাল কিনে খাবার জন্য ঠিক তেমনিই প্রসাধনী/কসমেটিক কিনে। এই কসমেটিক ব্যাবসায় ৩০%-৫০% পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন, কিছু কিছু ক্ষত্রেই আরো উপরে লাভ করতে পারবেন।  কিছু জিনিস মাথায় লাখলেই এই ব্যাবসা থেকে খুব অল্পদিনেই ভালো লাভ করতে পারবেন।

ক) এই ব্যাবসার মূলে হলো দুটো জিনিস # উপযুক্ত স্থান নির্বাচন # স্মার্ট আর সুন্দর ব্যাবহার # যুগেরর সাথে তাল মিলিয়ে নিত্য নতুন পণ্যের আপডেট।
  • উপযুক্ত স্থান নির্বাচনঃ বর্তমান মানুষ খুবই আরামপ্রিয় যার দরুণ মানুষ এক কাজে এসে অনেক গুলো কাজ করে নিতে চায়। আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠা টি এমন যায়গায় হওয়া উচিত যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়, যেমন আপনার বাজারের এমন একটি পয়েন্ট, যদিও এমন যায়গায় দোকান নিতে একটু টাকা খরচ করতে হয় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি, কিন্তু এটা সত্য যে এই স্থান নির্বাচন আপনার ব্যাবসার সাফল্যের চাবিকাঠি।


  • স্মার্ট আর সুন্দর ব্যাবহারঃ এই কসমেটিক/প্রসাধনীর প্রধান কাষ্টমার মেয়ে/মহিলারা, আর মেয়েরা কোমল হৃদয়ের অধিকারী হয়, তাদের সাথে কখনোই খারাপ ব্যাবহার করার যাবে না, মনে রাখবেন ভালো সু-সম্পর্ক আর ব্যাবহারের মাধ্যমে আপনি ডেমেজ পণ্যও তাদের দিতে পারেন যা হীরার টুকরো বলে নিয়ে যাবে(বুঝানোর সার্থে বললাম-তাই বলে ড্যামেজ পণ্য দিবেন না কখনো এতে কাষ্টমার যদি মুখে কিছু নাও বলে, দ্বিতীয় বার আপনার দোকানে আসবেন না)।

  • যুগেরর সাথে তাল মিলিয়ে নিত্য নতুন পণ্যের আপডেটঃ মানুষের নতুনের প্রতি সমসময় একটা ঝোঁক থাকে বেশি, তাই মান্ধাতা আমলের কালেকশান কাষ্টমার পছন্দ করে না, কাষ্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিত্য-নতুন কালেকশান আপডেট করতে হবে। 


খ) মোটামোটি ভাবে ৪-৫ লাখ টাকা ব্যাবাসায় বিনিয়োগ করলে মাসে ২০ হাজারের উপরে অনায়েশে আয় করতে পারবেন।

আমার ব্লগ টি আপনার পছন্দের তালিকায় থাকলে অবশ্যই, হোম পেইজের উপরের দিকে Subscription  Box এ আপনার  Email দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে, ইমেইলে ভেরিভাই করে নিন এবং আমার এই ব্লক টির নিচের দিকে Follow বাটনে ক্লিক করতে ভুলবেন না।ধন্যবাদ।

Artikel Terkait

Hello Guys, I'm IMRAN, passionate blogger. I’m always eager to learn new things. I am web Developer and Loves to play with Codes And Creating new things as a web Designer and specially as a blogger.