২টি লাভজনক বিনা পুঁজিতে ব্যাবসার আইডিয়া

ব্যাবসার_আইডিয়া
বিনা পুঁজিতে ব্যাবসার আইডিয়া


ব্যাবসা আইডিয়ার অন্ত বা শেষ কোনটাই নেই, তবে বিনা পুঁজিতে লাভজনক ব্যাবসার আইডিয়া গুলো খুজে খুজে বের করাটা একটু কষ্টসাধ্য ও সময়ের ব্যাপার, তাই আজ আপনাদের সামনে আজ এমন ২টি ব্যাবসায়িক আইডিয়া শেয়ার করব যেগুলো ব্যাবসা করতে আপনার নিজের তেমন পুজি/মূলধন লাগবে না।

আসলে ব্যাবসা করতে যেমন টাকার প্রয়োজন ঠিক তেমনি বুদ্ধিরও প্রয়োজন, কিছু-কিছু ক্ষেত্রে বুদ্ধিটাই প্রধান্য পায় বেশি। এই বিনা পুজির ব্যাবসাতে আপনাকে আপনার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

সময় আর চেষ্ঠা যার আছে, সে অবশ্যই সফলতার মুখ দেখতে পারবে ব্যাবসা। ব্যাবসা কোন শর্টকার্ট রাস্তা আমার জানা নেই বা এমন শর্ট-কার্ট বৈধ ব্যাবসা আছে বলেও কখনো শুনি নাই, তাই ধৈয্য ধরে সকল বাধা-বিপত্তি গ্লানিকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যান, ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবে। আর হ্যাঁ, যেহেতু আপনি বিনা পুঁজিতে ব্যাবসা করছেন, সেক্ষেত্র এই ব্যবসা করতে গেলে লজ্জা-সরম রাখা যাবে না(কোন কাজকেই ছোট করে দেখা উচিত না)। যে কাজকে আপনি মন থেকে ভালোবেসে করতে পারবেন না, সে কাজে সফল ও হতে পারবেন না।


প্রিন্টিং-সাপ্লাই-এর-ব্যবসা
প্রিন্টিং সাপ্লাই এর ব্যবসা

১) প্রিন্টিং সাপ্লাই এর ব্যাবসাঃ
প্রিন্টিং সাপ্লাই এর ব্যাবসা এতোটাই লাভজনক যে, আপনি যদি ধৈয্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যান তবে অল্প কিছুদিনের ভিতর আপনি নিজেই প্রিন্টিং ব্যবসার মালিক বণে যেতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক ক্যাটাগরির প্রিন্টিং ব্যবসা রয়েছে। প্রথমেই আপনাকে খুজ নিতে হবে কোন যায়গায় প্রিন্টিং করা হয় এবং কোথায়? সব তথ্যগুলো জেনেশুনে আপনাকে কয়েকটা প্রিন্টিং সাপ্লাইয়ারের সাথে দেখা করতে হবে।

# তাদের কাছে থেকে জেনে নিন ১) তারা কি কি প্রিন্ট করে? ২) কোনটার পাইকারি মুল্য কত? ৩) কোনটার খুচরা মূল্য কত?

সর্বশেষ কাজ হবে, প্রতিটা কাজের ডেমো পিন্টিং সাপ্লাইয়ার এর নিকট থেকে সংগ্রহ করা। কয়েকটা প্রিন্টিং সাপ্লাইয়ার এর সাথে একই কাজ করুন, তারপর দেখবেন কয়েকটা সাপ্লাইয়ার এর ভিতরে আপনাক মন মতো যেকোন একজন প্রিন্টিং সাপ্লায়ার পেয়ে যাবেন। ব্যবসা করতে গেলে বাজার গবেষণার পরিধী অনেক ব্যাপক। 

আপনি এই ক্যাটাগরি নিয়ে কাজ করতে পারেন ১) ভিজিটিং কার্ড, ২) প্যাড,৩) ক্যাশমেমো,৪) বীল ও চালান,৫) মানিরিসিপ্ট, ৬) ব্রুশিয়ার,৭) স্টীকার,৮) লিফলেট,৯) পোষ্টার,১০) ইনভেলপ,১১) ডিজিটাল ব্যানার,১২) আইডিকার্ড।

এখন আপনার আসল কাজ শুরু,
ক)প্রতিদিন আপনার বসার আশে-পাশে যে সকল ভালো প্রতিষ্ঠান, দোকান, কারখানা, স্কুল-কলেজ, গার্মেন্টস সেক্টর সেখানে গিয়ে, ঐখানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।

খ) আপনার ভিজিটিং কার্ড/ যেটা যেইখানে প্রয়োজন তার কিছু সেম্পল দেখান।

গ) আগের ভিজিটিং কার্ড কত দিয়ে নিয়েছিলেন এই সম্পর্কে জানুন।

ঘ) আপনা লাভ সীমিত হলেও, তাকে এমন একটি দাম অফার করুন যেটা আগের চেয়ে (আগে যার থেকে নিত) একটু হলেও কম।

ঙ) কথা-বার্তায় প্রফেশনাল ভাব আনুন( তাকে বুঝাতে চেষ্ঠা করুন এই কাজ আপনি ছাড়া কেউ ভালো করতে পারবে না।

চ) সব কিছু ঠিক-ঠাক হয়ে গেলে ভিজিটিং কার্ডের অর্ধেক টাকা চেয়ে এডভান্স নিয়ে নিন, এই টাকা সরাসরি আপনার প্রিন্টিং সাপ্লাইয়ার কে দিয়ে কাজ শুরু করতে বলেন।

ছ) আপনার কাষ্টমারের নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য একটি নোট বুক(Note Book) এ লিখে রাখুন, কেননা আপনার এই ব্যাবসায় বার বার তাদের প্রয়োজন পড়বে, প্রায় প্রতি মাসে একবার করে তাদের থেকে অর্ডার পাবেন ভালো কাজ উপহার দিতে পারলে।

লাভ সম্পর্কে ধারনাঃ ১ হাজার ভিজিটিং কার্ড ২৫০-৬৫০ টাকার মধ্যে আপনি পাইকারি কিনতে পারবেন এবং তা  ৫০০-১,৫০০ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দিতে পারবেন। ID Card কোয়ালিটি ভেদে ২৫-৩০ টাকার মধ্যে নিতে পারবেন, পরিচিত স্কুল, কলেজ, গার্মেন্টস, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ৪০-১০০৳  কোটেশান সাবমিট করুন। সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকলে প্রথম মাসেই ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আরো দেখুনঃ তিনটি ক্ষুদ্র লাভজনক ব্যাবসার আইডিয়া

প্রিন্টারের_টোনারের_ব্যবসা
প্রিন্টারের টোনার ব্যবসা

প্রিন্টারের টোনার ব্যাবসাঃ প্রিন্টারের টোনার বলতে, অফিস-আদালতে প্রিন্টারে কাগজ প্রিন্ট করার জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয় তার কথা বলা হয়েছে। এই প্রিন্টারের টোনার ব্যাবসা খুবই লাভজনক। এই ব্যাবসা করার জন্য উপরে প্রিন্টিং সাপ্লাই ব্যাবসার ক্ষেত্র যা যা করনীয় বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, মোটামোটি বেশ কয়েকটি টপিক এই ব্যবসায় প্রতিফলন করতে হবে।

আপনি যদি শুধু এই ব্যাবসাই করতে চান তবে করতে পারেন, শুধু আপনাকে টোনার ইম্পোর্টার এর কাছ থেকে পাইকারি দরে টোনার কিনে নিতে হবে। আর যদি দুটো ব্যাবসা একসাথে করতে চান, তবে আপনার কাছে আরো সহজ হবে, কেননা আপনি যে যে প্রতিষ্ঠানে প্রিন্টিং সাপ্লায়ের কাজ করছেন তার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই প্রিন্টার পেয়ে যাবে, যেখানে আপনি প্রিন্টারের টোনার সরবরাহ করতে পারবেন।

লাভ সম্পর্কে ধারণাঃ
আসলে আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানে অরিজিনাল টোনারের ব্যবহার খুবই কম, ব্যাবহার করে না বললেই চলে, কারন অরিজিনাল টোনারের দাম অনেক বেশি , প্রায় ৮ হাজার টাকার মত। তাই সব প্রতিষ্ঠানেই চায়না টোনার ব্যাবহার করে, কারন প্রিন্টিং কোয়ালিটি প্রায় একই তাই কাজে সমস্যা হয় না। সাধারণত একটি চায়না টোনারের দাম ২,০০০৳ থেকে ২,৫০০৳ টাকার মধ্যে, আর আপনি এই টোনার কিনতে পারবেন ১,২০০৳ থেকে ১,৫০০৳ টাকার মধ্যে টোনার ইম্পোর্টারের থেকে। আপনি যদি প্রতি মাসে ২৫ টা টোনার ও বিক্রি করতে পারেন মাসে ২৫,০০০৳ টাকার মতো থাকবেই। তাই বলাই যায় টোনার ব্যাবসা একটি ভালো লাভজনক ব্যবাসা।

বিঃদ্রঃ এই ব্যাবসা করতে গেলে যে যে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কড়া নাড়বেন, সবাই যে আপনার সেবা গ্রহন করবে তা কিন্তু নয়, তাই হতাশ হওয়া যাবে না। ১০ জনের মধ্যে ১ জন তো আপনার অফার গ্রহন করবে। যখন আপনি আপনার বাজার একবার ভালোভাবে তৈরি করে নিবেন, তখন আর আপনাকে ঘুরতে হবে না।
 ধন্যবাদ, সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। কমেন্ট করে আপনার মতামত জানাতে পারেন।



Artikel Terkait

Hello Guys, I'm IMRAN, passionate blogger. I’m always eager to learn new things. I am web Developer and Loves to play with Codes And Creating new things as a web Designer and specially as a blogger.